মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ওঠানামা করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্ক অবস্থান কাজ করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অধিকাংশ বড় বাজারেই সূচকের বড় ধরনের উত্থান-পতন লক্ষ করা গেছে। খবর এপি।
এশিয়ার শেয়ারবাজার লেনদেনে গতকাল জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫৫ হাজার ৫১৮ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৭১৩ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এছাড়া চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচকও সামান্য বেড়েছে। তবে এর বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৩৬ দশমিক ৪০ পয়েন্টে নেমেছে।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে কোরিয়ার বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা গেছে। গত বুধবার ১২ শতাংশ পতনের পর বৃহস্পতিবার ফের ১০ শতাংশ উত্থান ঘটেছিল এ বাজারে। এমন অস্বাভাবিক ওঠানামায় বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ভারতের সেনসেক্স সূচক দশমিক ৬ শতাংশ এবং তাইওয়ানের টাইএক্স সূচক দশমিক ৪ শতাংশ পতনের মুখ দেখেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও লেবাননের রাজধানীতে হামলার খবর বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে। সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সূচকের ওঠানামায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন বাজারেও বড় ধরনের দরপতন হয়। ডাও জোনস ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কয়েক লাখ যাত্রী আটকা পড়া এবং পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকান এয়ারলাইনস ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের মতো কোম্পানিগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে আকাশপথ ব্যবহার সীমিত হয়ে আসায় এ খাতের মুনাফা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত পুঁজিবাজারে এ অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি নির্ভর করছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের চেয়ে নিরাপদ সম্পদে অর্থ রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজার পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতার সঙ্গে পা বাড়ানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।